দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাবেচা। তবে জেলার অধিকাংশ পশুর হাটের ইজারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাতে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির চার উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৪০টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে অস্থায়ী হাটের সংখ্যাই বেশি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি হাটের ইজারা পেয়েছেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে।
রাজাপুর উপজেলার দুইটি হাটের ইজারা নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই নেতা। কাঁঠালিয়া উপজেলার একটি হাট ইজারা নিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা। এছাড়া জেলার অস্থায়ী ২৭টি হাটের মধ্যে ২৪টির ইজারাদারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলায় ছয়টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো কৃষ্ণকাঠি গুরুধাম হাট ৭ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান হিরু। বিকনা স্টেডিয়াম মাঠের হাট ১ লাখ ২১ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন যুবদল নেতা ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটগুলোতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ইজারা পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নলছিটি উপজেলায় চারটি অস্থায়ী হাটের মধ্যে চায়না মাঠের হাট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৭ টাকায় ইজারা নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। পাশাপাশি অন্যান্য হাটেও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নাম পাওয়া গেছে।
রাজাপুর উপজেলার ৯টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে একাধিক হাট বিএনপি ও আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের হাতে গেছে বলে জানা গেছে।
কাঁঠালিয়া উপজেলার সাতটি হাটের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের এক নেতার নামও ইজারাদার হিসেবে রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, সব কোরবানির পশুর হাট যথাসময়ে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ২ হাজার ১৩৬ জন খামারি ৩০ হাজার ২৩৪টি পশু প্রস্তুত করেছেন, যা জেলার চাহিদার সমান। তবে অতিরিক্ত ৩৫৪টি পশু খামারে রয়েছে।
খামারিরা জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বন্ধ থাকলে ন্যায্য দাম পাওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, হাটগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং অসুস্থ পশু বিক্রি রোধে নজরদারি চলছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জে আই